চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে রেকর্ড ১৩ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদন

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আমন মৌসুমে উৎপাদন কমে এলেও চলতি মৌসুমে অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বাড়িয়ে বোরো ধানের উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আমন মৌসুমে উৎপাদন কমে এলেও চলতি মৌসুমে অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বাড়িয়ে বোরো ধানের উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে। এবারের বোরো মৌসুমে অঞ্চলটিতে রেকর্ড প্রায় ১৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

এক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে ৭ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে নতুন করে বোরোর চাষাবাদ হওয়ায় চালের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৬৬৩ টন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়া এবং দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির কারণে এ মৌসুমে ধান আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় সার্বিক উৎপাদন বেড়েছে।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সমাপ্ত বোরো মৌসুমে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর) বোরোর আবাদ হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫৬ টন চাল। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৭ হাজার ৬০৫ হেক্টর ও উৎপাদন বেড়েছে ৪৭ হাজার ৬৬৩ টন চালের।

অঞ্চলে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৩ হেক্টর হাইব্রিড ধানের আবাদে উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ১৮৩ টন চাল। উফশী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ হেক্টরের উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ৯৮৪ টন এবং ১৮৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধানে উৎপাদন হয়েছে ৩৮৮ টন চাল। হেক্টরপ্রতি হাইব্রিডে গড় উৎপাদন ৪ দশমিক ৮৮ টন, উফশীতে ৩ দশমিক ৮৫ টন ও স্থানীয় জাতের গড় উৎপাদন ২ দশমিক ১০ টন।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (চট্টগ্রাম অঞ্চল) উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌরভ দাশ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে সমাপ্ত বোরো মৌসুমে উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ১৩ লাখ টনের কাছাকাছি চালের উৎপাদন হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরো কিছুদিন লাগবে। অনাবাদি ও তিনফসলি জমিতে চাষাবাদ বাড়ায় এ উৎপাদন বেড়েছে। তাছাড়া বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৯ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ টন চাল। বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৫৫০ হেক্টর ও উৎপাদন বেড়েছে ৫ হাজার ৮২৮ টন চালের। কক্সবাজার জেলায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ৫৫ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৯ টন চাল। ফেনী জেলায় আবাদ হয়েছে ৩১ হাজার ৪০৮ হেক্টর ও উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭০৭ টন চালের। লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৮ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭৫ টন চাল।

চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আবাদ ও উৎপাদন হয় নোয়াখালী জেলায়। জেলাটিতে রেকর্ড ১ লাখ ৪ হাজার ৮৬ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল হাইব্রিড ও উফশীর আবাদ হয়। মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৫ টন চালের। বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৪ হাজার ৩৫৬ হেক্টর ও উৎপাদন বেড়েছে ২৪ হাজার ২৪৮ টন চালের। জেলাটিতে সমাপ্ত বোরো মৌসুমে ৮৭ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ১৪৮ টন চাল। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ৪ দশমিক ৯২ টন। এছাড়া ১৬ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের বোরো আবাদে উৎপাদন হয়েছে ৬২ হাজার ৫৬৬ টন চালের।

গত অর্থবছরগুলোর উৎপাদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চট্টগ্রামে বোরো মৌসুমে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৮ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১ লাখ ৭৭ হাজার টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫০ টন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৯ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। অর্থাৎ গত ১৩ বছরে এ অঞ্চলে উৎপাদন বেড়েছে ৪ লাখ ১২ হাজার ৯৮৭ টন চালের এবং আবাদ বেড়েছে ৭২ হাজার ৭৮৪ হেক্টর।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রামে প্রতি বছর বোরো মৌসুমে উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধান আবাদের কারণে উৎপাদন ক্রমে বাড়ছে। তাছাড়া কৃষকদের নিয়মিত গাইড করা, চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, মাঠ ও ফসল নিয়মিত মনিটরিং, রোগ বালাইমুক্ত রাখতে কম ক্ষতিসম্পন্ন কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন বেড়েছে।

আরও